গত শুক্রবার নিউইয়র্কের ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) ডিসেম্বরের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম দশমিক ৮৮ সেন্ট বা ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে ৮৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। শেষ চার কার্যদিবসের তুলাটি দাম কমেছে ৯০ পয়েন্ট। বাজারে সক্রিয় সব চুক্তিই ৩৭-৯০ পয়েন্ট পর্যন্ত কমেছে, যা প্রায় এক মাসের মধ্যে তুলার সর্বনিম্ন দরপতন।
পতন সত্ত্বেও বাজারে লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৫৬ হাজার ২৮৮টি চুক্তিতে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয় ৫৫ হাজার ১৯৬টি চুক্তি। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দাম কমার পাশাপাশি লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টি বাজারে বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দেয়। তবে এ দরপতনের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক বিষয় তুলার বাজারকে বড় পতন থেকে রক্ষা করেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সপ্তাহভিত্তিক রফতানি প্রতিবেদনে ১ লাখ ৩০ হাজার ২৬ বেল (প্রতি বেলে ৪৮০ পাউন্ড বা ২২০ কেজি) তুলার নিট বিক্রির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে তুলার প্রারম্ভিক মজুদ কমে যাওয়া, চীনের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয়াগারে টানা ১৭ দিন শতভাগ তুলা বিক্রি হওয়া এবং খরা ও অতিরিক্ত গরমের কারণে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতে তুলা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাজারের মূল ভিত্তিকে ধরে রেখেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়া তুলার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ জ্বালানি তেলের দাম কমলে কৃত্রিম তন্তু বা পলিয়েস্টারের উৎপাদন খরচ কমে যায়, যা প্রাকৃতিক তুলার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে প্রতিযোগিতার মুখে ফেলে।